চেয়ারম্যান তারেক রহমান

বিএনপি চেয়ারম্যান

তারেক রহমান (জন্ম: ২০ নভেম্বর ১৯৬৫) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির চেয়ারম্যান। তিনি এর আগে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন।

প্রারম্ভিক জীবন ও কারাবরণ

জনাব রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং রাজনৈতিক উত্থান-পতনের একজন সাক্ষী ও অংশগ্রহণকারী। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়, যখন তাঁর পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন, তখন তাঁকে, তাঁর মা ও ভাইকে অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধা সামরিক কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদের সাথে গ্রেফতার করা হয়। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য কারাবন্দী হওয়া সর্বকনিষ্ঠ কারাবন্দীদের একজন।

শিক্ষা ও এরশাদবিরোধী আন্দোলন

ঢাকার বিএএফ শাহীন কলেজে প্রাথমিক পড়াশোনা শেষ করে ১৯৮০-এর দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে ভর্তি হন। বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি সক্রেটিস, প্লেটো, অ্যারিস্টটল, হবস, লক, রুশো, ভলতেয়ার, কার্ল মার্কসসহ বিভিন্ন চিন্তাবিদের রাজনৈতিক চিন্তাধারা অধ্যয়ন করেন। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি তাঁর মায়ের সাথে রাজপথে আন্দোলনে যোগ দেন এবং ১৯৮৮ সালে দলের গাবতলী উপজেলা ইউনিটে সাধারণ সদস্য হিসেবে বিএনপিতে যোগদান করেন। তিনি তৃণমূল থেকে জনগণকে সংগঠিত করে এরশাদ সরকারের পতনে অবদান রাখেন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনের আগে তিনি তাঁর মা বেগম খালেদা জিয়ার সাথে দেশের প্রায় প্রতিটি জেলায় প্রচারণা চালান।

তৃণমূল গণতন্ত্র ও দল গঠন

তিনি বগুড়ায় তৃণমূল থেকে গোপন ব্যালটে নেতা নির্বাচনের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সূচনা করেন এবং অন্যান্য জেলা ইউনিটকেও গণতান্ত্রিকভাবে নেতা নির্বাচনে উৎসাহিত করেন। ২০০১ সালের নির্বাচনের আগে তিনি সুশাসন ও স্থানীয় সমস্যা নিয়ে গবেষণার জন্য ঢাকায় একটি অফিস প্রতিষ্ঠা করেন; তাঁর প্রচেষ্টায় ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে। চেয়ারপারসনের ছেলে হয়েও তিনি কোনো মন্ত্রিত্ব বা সংসদ সদস্যপদ গ্রহণ না করে দলের তৃণমূল ক্ষমতায়নে মনোনিবেশ করেন। ২০০২ সালে তিনি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক পদে মনোনীত হন। ২০০৫ সালে দেশব্যাপী তৃণমূল সম্মেলন আয়োজন করে তিনি কৃষক ভর্তুকি, বয়স্ক ভাতা ও নারী শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করেন এবং ব্যক্তিগতভাবে অন্তত ১৮০০০ চিঠির উত্তর দেন।

নির্যাতন ও নির্বাসন

২০০৭ সালে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত সামরিক শাসকদের বেআইনি ক্ষমতা দখলের পর জনাব তারেক রহমানের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তাঁর মা বেগম জিয়াকে দেশত্যাগে বাধ্য করতে তাঁকে গ্রেপ্তার করে নির্যাতন করা হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে বিদেশে যেতে হয়।

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও প্রত্যাবর্তন

তিনি ২০০৯ সালে বিএনপির সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং ধীরে ধীরে দলের পুনর্গঠনে যুক্ত হন। ২০১৮ সালে যখন তাঁর মা বেগম খালেদা জিয়া মিথ্যা অভিযোগে কারাবন্দী হন, তখন তাঁকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন মনোনীত করা হয়। তখন থেকে তিনি স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। দীর্ঘ ১৭ বছরের বেদনাদায়ক নির্বাসিত জীবনের পর জনাব তারেক রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ঘটে। চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালের পর দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিনি বিএনপির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

ব্যক্তিগত জীবন

১৯৯৪ সালে তারেক রহমান বাংলাদেশের সাবেক নৌবাহিনী প্রধান ও দুইবারের মন্ত্রী প্রয়াত রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের কন্যা ডাঃ জোবায়দা রহমানকে বিয়ে করেন। জোবায়দা রহমান একজন কার্ডিওলজিস্ট এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজে পড়াশোনা করেছেন। জাইমা জারনাজ রহমান নামে তাঁদের একটি মেয়ে রয়েছে।
চ্যাট সহায়তা